মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় :: রমজান মাসে পরিবারের জন্য সেহরি ও ইফতারের খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে আলম এই ডাকাতির পরিকল্পনা। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় সদর থানার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা মৌজায় প্রিন্সিপাল মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হামলা চালায়। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরে থাকা ওয়্যারড্রোব, স্যুটকেস ও ড্রেসিং টেবিলে রাখা প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা), নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা নং-২৮, তারিখ ২৭/০২/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, পেনাল কোডের ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার পঞ্চগড়ের নির্দেশনায় এসআই মো. আবু হোসেন ও এসআই মো. নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল, পুকুরীডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মো. মজিবর রহমান (৩৫), মো. রমজান আলী (৩০), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০), মো. আশিক (১৯) ও মো. জুবায়ের (১৯)। তাদের সবার বাড়ি হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মার্চ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে যুগিভিটা এলাকার বাসিন্দা ও এই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী মো. আলম (৩৭) কে জিয়াবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল্লাহ পরিবারের প্রতিবেশী।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি স্মার্টফোন, একটি সিমকার্ড, একটি সাবল, একটি ছোট চাকু ও দুটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দরিদ্রতার কারণে সংসারের অভাব মেটাতে এবং রমজান মাসে পরিবারের জন্য সেহরি ও ইফতারের খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে আলম এই ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরে সে তার সহযোগীদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে ঘটনাটি ঘটায়।
ঘটনার দিন রাতে তারা বাড়ির পশ্চিম পাশের সুপারি বাগান দিয়ে এসে গ্রিলবিহীন জানালা সাবল দিয়ে ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. আলম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বর্তমানে গ্রেফতারকৃত সাদ্দাম, জুবায়ের ওরফে জিদান, রমজান, মজিবর ও আশিক ২ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে এবং আলমকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply